{{ news.section.title }}
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বিলিয়নিয়ারদের রেকর্ড সম্পদ বৃদ্ধি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অভাবনীয় উত্থান, শেয়ারবাজারের শক্তিশালী গতি, প্রযুক্তি কোম্পানির আকাশচুম্বী মূল্যায়ন এবং অনুকূল আর্থিক পরিবেশ-সব মিলিয়ে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের জন্য ২০২৬ সাল হয়ে উঠেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর।
ফোর্বস-এর ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ডস বিলিয়নিয়ার্স লিস্ট অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বের বিলিয়নিয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩ হাজার ৪২৮ জনে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৪০০ জন বেশি। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ পৌঁছেছে ২০ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। ফোর্বস এই তালিকা তৈরি করেছে ২০২৬ সালের ১ মার্চের শেয়ারমূল্য ও বিনিময় হার ধরে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে প্রযুক্তি ও এআই খাতের বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধির কারণে। একসময় সম্পদ তৈরির প্রধান উৎস ছিল জমি, শ্রম, শিল্পকারখানা ও আর্থিক সম্পদ। পরে ইন্টারনেট, সফটওয়্যার, ডেটা, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং মেধাস্বত্ব নতুন সম্পদের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখন সেই ধারা প্রবেশ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। যারা এআই অবকাঠামো, চিপ, ক্লাউড কম্পিউটিং, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার, অটোমেশন ও মেশিন লার্নিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অনেকের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে।
ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে রেকর্ড ৯৮৯ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন, যাদের সম্মিলিত সম্পদ প্রায় ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। শীর্ষ ২০ ধনীর মধ্যে ১৫ জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন-হংকংসহ দেশটির বিলিয়নিয়ার সংখ্যা ৬১০। তৃতীয় স্থানে ভারত, যেখানে বিলিয়নিয়ার রয়েছেন ২২৯ জন।
২০২৬ সালের তালিকায় শুধু বিলিয়নিয়ার সংখ্যাই বাড়েনি, তাদের গড় সম্পদও বেড়েছে। ফোর্বস-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর একজন বিলিয়নিয়ারের গড় সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে ছিল ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধি শুধু কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, খুচরা বাণিজ্য, বিলাসপণ্য, এআই ও আর্থিক খাতজুড়ে সম্পদ বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
ইলন মাস্ক শীর্ষে, সম্পদ ৮৩৯ বিলিয়ন ডলার
২০২৬ সালের ফোর্বস তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে আবারও শীর্ষে রয়েছেন ইলন মাস্ক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা ফোর্বস-এর হিসাবে ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ সম্পদ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালে তার সম্পদ ছিল ৩৪২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার।
মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছে টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্সএআই থেকে। তিনি সাতটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা বা প্রতিষ্ঠাতা পর্যায়ে যুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই। ফোর্বস আফ্রিকার এপ্রিল ২০২৬ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স ও এক্সএআই–এর মূল্যায়ন বৃদ্ধির কারণে মাস্কের সম্পদ এক পর্যায়ে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠে যায়।
গুগলের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। ২০২৬ সালে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৭ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালে তার সম্পদ ছিল ১৪৪ বিলিয়ন ডলার। ল্যারি পেজ ২০১৯ সালে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী পদ ছাড়লেও তিনি এখনও প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সদস্য ও নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডারদের একজন।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গুগলের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। তার সম্পদের পরিমাণ ২৩৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তার সম্পদ ছিল ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। গুগল সার্চ, ইউটিউব, ক্লাউড, অ্যান্ড্রয়েড এবং এআই-ভিত্তিক পণ্যের কারণে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেজ ও ব্রিনের সম্পদ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বেজোস, জাকারবার্গ ও এলিসন: প্রযুক্তির পুরোনো শক্তিও এগিয়ে
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২২৪ বিলিয়ন ডলার। ১৯৯৪ সালে সিয়াটলের নিজের গ্যারেজ থেকে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেজোস। বর্তমানে ই-কমার্সের পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, লজিস্টিকস ও এআই সেবায় অ্যামাজনের শক্তিশালী অবস্থান তার সম্পদ ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২২ বিলিয়ন ডলার। ২০০৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুক চালু করেছিলেন জাকারবার্গ। বর্তমানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, রিলস, বিজ্ঞাপন ব্যবসা, মেটাভার্স বিনিয়োগ এবং এআই মডেল উন্নয়নের মাধ্যমে মেটা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। তার সম্পদের পরিমাণ ১৯০ বিলিয়ন ডলার। তিনি বর্তমানে ওরাকলের চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা। ক্লাউড অবকাঠামো, ডেটাবেজ সফটওয়্যার এবং এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি বাজারে ওরাকলের শক্তিশালী অবস্থান এলিসনের সম্পদ ধরে রেখেছে।
লাক্সারি, চিপ ও বিনিয়োগ খাতের ধনকুবেররাও শীর্ষ দশে
সপ্তম স্থানে রয়েছেন ফরাসি বিলাসপণ্য সাম্রাজ্য এলভিএমএইচ-এর প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট ও পরিবার। তাদের সম্পদের পরিমাণ ১৭১ বিলিয়ন ডলার। লুই ভুইতোঁ, ডিওর, সেফোরা, টিফানি অ্যান্ড কোংসহ ৭৫টিরও বেশি ফ্যাশন, প্রসাধনী, গহনা ও বিলাসপণ্য ব্র্যান্ড নিয়ে গড়ে উঠেছে আর্নল্টের সাম্রাজ্য।
অষ্টম স্থানে উঠে এসেছেন এনভিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। তার সম্পদের পরিমাণ ১৫৪ বিলিয়ন ডলার। ১৯৯৩ সালে তিনি এনভিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে কোম্পানিটি গ্রাফিক্স চিপ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে এআই চিপ, ডেটা সেন্টার প্রসেসর এবং উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং অবকাঠামোর কারণে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এনভিডিয়া ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করে। এআই চিপের চাহিদা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ এবং জেনারেটিভ এআই বাজারের বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি এনভিডিয়ার বাজারমূল্য বাড়িয়েছে। রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম এক পর্যায়ে ১০৮৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
নবম স্থানে রয়েছেন বিনিয়োগ জগতের কিংবদন্তি ওয়ারেন বাফেট। তার সম্পদের পরিমাণ ১৪৯ বিলিয়ন ডলার। ‘ওরাকল অব ওমাহা’ নামে পরিচিত বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, বীমা, জ্বালানি, রেলপথ, ভোক্তাপণ্য ও আর্থিক খাতে বিশাল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
দশম স্থানে রয়েছেন স্পেনের ফ্যাশন ব্যবসায়ী আমানসিও ওর্তেগা। তার সম্পদের পরিমাণ ১৪৮ বিলিয়ন ডলার। জারা-র মূল প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ওর্তেগা বিশ্বের অন্যতম ধনী খুচরা পোশাক ব্যবসায়ী।
এআই কীভাবে নতুন সম্পদ তৈরি করছে
বর্তমানে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তির একটি হলো এআই। শুধু বড় প্রযুক্তি কোম্পানি নয়, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারাও এআই ব্যবহার করে দ্রুত সম্পদ তৈরি করছেন। হুরুন গ্লোবাল আন্ডার-৪০ সেলফ-মেড বিলিয়নিয়ার্স ২০২৬ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪০ বছরের কম বয়সী স্বনির্মিত বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো এআই সবচেয়ে বড় সম্পদ-সৃষ্টিকারী খাত হয়েছে। এই তালিকায় ১০৮ জন স্বনির্মিত তরুণ বিলিয়নিয়ারের মধ্যে ২৭ জনই এআই খাতের সঙ্গে যুক্ত, যাদের সম্মিলিত সম্পদ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার।
এই তথ্য দেখাচ্ছে, এআই শুধু কয়েকটি বড় কোম্পানির বাজারমূল্য বাড়াচ্ছে না; বরং নতুন উদ্যোক্তা, কোডিং টুল, ডেটা লেবেলিং, এআই হায়ারিং প্ল্যাটফর্ম, ক্লাউড অবকাঠামো, এআই মডেল, সাইবার নিরাপত্তা এবং এন্টারপ্রাইজ অটোমেশন-এসব খাতে নতুন সম্পদও তৈরি করছে। হুরুন রিপোর্টে ২২ বছর বয়সী মারকর সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেনডান ফুডি, আদর্শ হিরেমাথ ও সূর্য মিডহা এবং এআই কোডিং টুল কার্সর–এর পেছনের প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ার–এর তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
১০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ থেকে মিলিয়ন ডলার: এনভিডিয়া উদাহরণ
এআই-চালিত সম্পদ বৃদ্ধির সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ এনভিডিয়া। এক দশক আগে এনভিডিয়ায় ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে, শেয়ারের উত্থানের কারণে সেই বিনিয়োগ মিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছাতে পারত-এমন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে দ্য মোটলি ফুল।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতীতের রিটার্ন ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। এআই খাত যত দ্রুত বাড়ছে, ততই বাজারে অতিমূল্যায়ন, প্রতিযোগিতা, চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি ও ডেটা সেন্টার ব্যয়, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রশ্নও বড় হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এনভিডিয়ার চীন-সংক্রান্ত আয় ও এআই চিপ রপ্তানি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি উত্তেজনার প্রভাব রয়েছে।
রিয়েল-টাইম তালিকা বদলে যায় প্রতিদিন
ফোর্বস-এর বার্ষিক তালিকা ১ মার্চ ২০২৬-এর শেয়ারমূল্য ও বিনিময় হার ধরে তৈরি হলেও ধনীদের সম্পদ প্রতিদিন বদলায়। ইনভেস্টোপিডিয়ার ৮ মে ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী, ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স-এ তখন ইলন মাস্কের সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৬৭৩ বিলিয়ন ডলার, আর শীর্ষ ১০ তালিকায় কিছু অবস্থানও পরিবর্তিত হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ ধনীদের সম্পদের বড় অংশ শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কোম্পানির বাজারমূল্য বাড়লে বা কমলে তাদের নেট ওয়ার্থও দ্রুত ওঠানামা করে।
ফোর্বস আফ্রিকার এপ্রিল ২০২৬ বিশ্লেষণেও দেখা যায়, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে শীর্ষ ১০ ধনীর অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। জেফ বেজোস এক পর্যায়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন, সের্গেই ব্রিন চতুর্থ স্থানে নামেন, আর ওয়ারেন বাফেট ও আমানসিও ওর্তেগা শীর্ষ দশের বাইরে চলে যান। অর্থাৎ বার্ষিক তালিকা সম্পদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের ছবি দিলেও বাস্তব বাজারে ধনীদের অবস্থান প্রতিদিনই বদলাতে পারে।
সম্পদ বাড়ছে, বৈষম্যের প্রশ্নও বাড়ছে
বিলিয়নিয়ারদের এই রেকর্ড সম্পদ বৃদ্ধি একদিকে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সাফল্য ও বাজারের শক্তি দেখাচ্ছে; অন্যদিকে বৈশ্বিক সম্পদ বৈষম্যের প্রশ্নও সামনে আনছে। কয়েক হাজার মানুষের হাতে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা নতুন চাকরি, নতুন শিল্প ও নতুন অবকাঠামো তৈরি করছেন-তবে একই সঙ্গে এআই অটোমেশন ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যুগে সম্পদ তৈরির সুযোগ যেমন বড়, ঝুঁকিও তেমন বড়। যারা প্রযুক্তি বুঝবে, দক্ষতা বাড়াবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করবে এবং বাজারের পরিবর্তন আগেভাগে ধরতে পারবে, তারা সুবিধা পাবে। কিন্তু শুধু এআই শব্দ শুনে বিনিয়োগ করলে বা ঝুঁকি না বুঝে বাজারে প্রবেশ করলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকবে।
২০২৬ সালের বিলিয়নিয়ার তালিকা স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর সম্পদ সৃষ্টির যুগে প্রবেশ করেছে। ইলন মাস্ক, ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গ, ল্যারি এলিসন ও জেনসেন হুয়াংদের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে আছে সফটওয়্যার, ক্লাউড, ডেটা, এআই, চিপ, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর বিস্তার।
আগের যুগে জমি, কারখানা ও পুঁজি ছিল সম্পদের মূল উৎস। ইন্টারনেট যুগে নেটওয়ার্ক, ডেটা ও প্ল্যাটফর্ম সম্পদ তৈরি করেছে। আর এখন এআই যুগে জ্ঞান, অটোমেশন, কম্পিউটিং ক্ষমতা, অ্যালগরিদম ও মেধাস্বত্ব হয়ে উঠছে সম্পদ তৈরির নতুন ইঞ্জিন। ফলে ২০২৬ সালের বিলিয়নিয়ার তালিকা শুধু ধনীদের তালিকা নয়; এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতির দিকনির্দেশনাও দেখাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: Forbes