{{ news.section.title }}
শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি দাবি করেছেন, উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি ইসরায়েল সরকার দিয়েছিল, তা এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
কাৎজ বলেন, এই যুদ্ধবিরতি মূলত লেবাননে ইসরায়েলের তৈরি নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে এটি লেবাননের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথও খুলে দিতে পারে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং উত্তরের বসতি এলাকায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দক্ষিণ লেবাননে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জেফতা-কাফরওয়া সড়কে চালানো ওই ড্রোন হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন ঘটনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবানন এলাকায় উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মূলত সীমান্ত সংঘাত কমানো এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের অবস্থান সরানোর বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। এই বিষয়টি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বহুবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও সীমান্ত উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ছোট আকারের হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-একদিকে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে উভয় পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়া।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘নতুন বাস্তবতা’ মন্তব্য মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিলেও, ড্রোন হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে যে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে চলমান সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।