আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের ব্যবধানে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে স্বর্ণের দাম। জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস, মার্কিন ডলারের কিছুটা দুর্বল অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা-এই তিনটি প্রধান কারণে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স (১১.৬৬৩৮ গ্রাম) খাঁটি স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৮৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই দিনে আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডলারের মান কিছুটা দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠায় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ এটি নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘সেইফ হ্যাভেন’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “স্বর্ণের বাজারের এই উত্থান এখনো পুরোপুরি জ্বালানি তেল ও ডলারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। এগুলো যখনই পিছনের দিকে ফেরে, ঠিক তখনই স্বর্ণের দাম বাড়ে।”

 

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিতও দেখা গেছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন সব ধরনের সংঘাত বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইরান–সম্পর্কিত বৃহত্তর সংঘাত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও নিম্নমুখী হয়েছে।

 

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক অগ্রগতিও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এককভাবে ইরানবিষয়ক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।

 

সাধারণভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে বাধ্য হয়। তবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই তিনি মনে করেন।

 

এদিকে স্টোনএক্সের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন মনে করেন, স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনো শেষ হয়নি। তার মতে, “আমি মনে করি না স্বর্ণের বাজারের এই সুদিন এখনই শেষ হয়ে গেছে। বছর শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে-এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।”

 

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রূপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্ল্যাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের ওঠানামা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা-এই তিনটি ফ্যাক্টর আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর বাজারকে প্রভাবিত করবে।


সম্পর্কিত নিউজ