যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বায়োল্যাব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তুলসী গ্যাবার্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বায়োল্যাব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তুলসী গ্যাবার্ডের
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত বায়োল্যাব বা জৈব গবেষণাগার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি বায়োল্যাবের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এবং এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তুলসী গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এসব গবেষণাগারের অবস্থান, কার্যক্রম এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করেছেন। তার দাবি, বহু বছর ধরে এসব ল্যাবের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে এবং যারা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বা তথ্য প্রকাশের চেষ্টা করেছেন, তাদের নানা অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

গ্যাবার্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত অনেক গবেষণাগারে অতীতে বা বর্তমানে বিপজ্জনক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ নামে পরিচিত উচ্চঝুঁকির গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে।

 

বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণা বলতে কোনো জীবাণু বা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তার সংক্রমণ ক্ষমতা, বিস্তার বা অন্যান্য জৈবিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করাকে বোঝায়। এই ধরনের গবেষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে এটি ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে, আর সমালোচকদের মতে এটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

গ্যাবার্ড আরও দাবি করেন, এসব গবেষণার ঝুঁকি উপলব্ধি করেই ২০২৫ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে নির্দিষ্ট ধরনের গবেষণায় সরকারি অর্থায়ন সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

 

সংবাদমাধ্যম TRT World-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাবার্ড বিশ্বজুড়ে কয়েক ডজন দেশে এমন গবেষণাগারের কথা উল্লেখ করলেও তার প্রকাশিত নথিতে নির্দিষ্টভাবে ইউক্রেনের চারটি গবেষণাগারের নাম উঠে এসেছে। তবে অন্যান্য দেশের ল্যাবগুলোর অবস্থান বা বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্বাস্থ্য খাতের কিছু প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে জনগণের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন করেননি।

 

তবে তার এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

তিনি জানান, তার সংস্থা বর্তমানে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে এসব গবেষণাগারের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

 


সম্পর্কিত নিউজ