{{ news.section.title }}
ইউক্রেনে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বেসামরিক হতাহত, উদ্বেগ জাতিসংঘের
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে ইউক্রেনে অন্তত ২৭৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ৭৬৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে নিহত ও আহতের সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বছরের ওই সময়ে ১৯১ জন নিহত এবং ৮৬৫ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ পরিসংখ্যান যুদ্ধের মানবিক মূল্য আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
জাতিসংঘ বলছে, মে মাসে সংঘটিত মোট হতাহতের প্রায় ৪৫ শতাংশই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হয়েছে। এসব হামলার একটি বড় অংশ সংঘটিত হয়েছে রাজধানী কিয়েভ, দনিপ্রো এবং যুদ্ধের সম্মুখসার থেকে দূরের অন্যান্য শহরে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক এলাকাগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামনের সারির যুদ্ধাঞ্চলে স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলা বর্তমানে বেসামরিক হতাহতের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। শুধু মে মাসেই এ ধরনের হামলায় ৬৪ জন নিহত এবং ৫৩৯ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে ড্রোন হামলায় এত বেশি হতাহতের ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মানবিক পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৪৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।
তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় সেখানে হতাহতের প্রকৃত চিত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে আরও অনেক প্রাণহানি থেকে যেতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ছে। অবকাঠামো ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতা লাখো মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।