জার্মানিতে তেল পাইপলাইন বন্ধের পরিকল্পনা পুতিনের

জার্মানিতে তেল পাইপলাইন বন্ধের পরিকল্পনা পুতিনের
ছবির ক্যাপশান, পুতিনের জার্মানিতে তেল রপ্তানি বন্ধ পরিকল্পনা | ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির দিকে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, আগামী ৯ দিনের মধ্যে দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ করা হবে। ফলে কাজাখস্তান থেকে ইউরোপে যাওয়া তেলের সরবরাহও ব্যাহত হবে। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জার্মানিতে। দেশটির পিসিকে শোধনাগারে ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। এই শোধনাগারই বার্লিন শহরের গাড়ির প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান সরকার ইতোমধ্যে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।


বার্লিনের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত পিসিকে শোধনাগার দেশটির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র। এটি বার্লিন ও এর বিমানবন্দরের জন্য কেরোসিন ও তাপ জ্বালানির প্রধান সরবরাহকারী। শোধনাগারটি আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হতো এবং রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলার পর জার্মানি রাশিয়ার পরিবর্তে কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানি শুরু করে।


দ্রুজবা পাইপলাইন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক। এটি রাশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে জার্মানি, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে তেল সরবরাহ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাইপলাইন বন্ধের সিদ্ধান্ত ইউরোপে জ্বালানি সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।


জার্মানির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে দেশটির মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৪ সালের ২ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় বেশি। বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্যাথেরিনা রিচি বলেন, এ বছর প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আবারও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ধাক্কায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।


ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জরজেনসেন সতর্ক করে বলেছেন, সামনে ইউরোপের জন্য খুব কঠিন কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর অপেক্ষা করছে। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জ্বালানি সহায়তা এবং বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুত দুই মাসেরও কম সময়ের জন্য থাকতে পারে। রাশিয়া ইতোমধ্যে কাজাখস্তান ও জার্মানিকে জানিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ