ইরানের রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি রাডার ও সামরিক নজরদারি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার (৬ জুন) হরমুজ প্রণালির আকাশে ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। নতুন এই সংঘাতের ফলে পারস্য উপসাগরজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই জলপথে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূপাতিত ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন বাহিনী কেশম ও গোরুক দ্বীপ এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি সামরিক নজরদারি ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব স্থাপনা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

 

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হুমকির কারণে উভয় দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। কিছু এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া বলে সন্দেহ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। অপরদিকে তেহরান দাবি করেছে, তারা সফলভাবে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকেও নতুন করে অস্থির করে তুলতে পারে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এখানে সামরিক সংঘাতের যেকোনো বিস্তার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

 

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সম্ভাব্য সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ