{{ news.section.title }}
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ইরানি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটল, যখন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানের ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি আকাশেই ধ্বংস করা হয়। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় তাদের কোনো সদস্য হতাহত হননি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোও অক্ষত রয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান হরমুজ প্রণালির দিকে চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ পাঠিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা অঞ্চলে অবস্থিত ‘শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কুয়েতে অবস্থিত আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলো ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।
এ ঘটনার পর কুয়েত ও বাহরাইনে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। বাহরাইনে কিছু সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনীও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন জাহাজগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক নৌযানগুলোর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের জেবডিন এলাকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। যদিও উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ এড়ানোর কথা বলছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অঞ্চলটি এখনো সংঘাতের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফলে আগামী কয়েকদিন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।