{{ news.section.title }}
বেন গভিরের সফর ঘিরে ফের উত্তপ্ত আল আকসা পরিস্থিতি
ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতির পর জেরুজালেমের পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোতে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে এ সপ্তাহে আবারও সেখানে ফিরতে শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও খ্রিষ্টান উপাসকরা। শুক্রবার আল আকসা প্রাঙ্গণে জুমার নামাজে অংশ নেন এক লাখের বেশি মুসল্লি। একই সময়ে অর্থোডক্স ইস্টারের আনুষ্ঠানিকতাকে সামনে রেখে খ্রিষ্টান উপাসকরাও জেরুজালেমের চার্চ অব দ্য হলি সেপালখরে ফিরে যান।
তবে এই পুনরায় খোলার ইতিবাচক পরিবেশ খুব দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়, যখন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির পুলিশি নিরাপত্তায় আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ইহুদিদের জন্য ওই স্থানে আরও বিস্তৃত প্রার্থনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তার এই অবস্থান নতুন করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি অঞ্চলটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থানগুলোর একটিতে বহুদিনের প্রচলিত স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
এদিকে, গাজায় বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেইত লাহিয়ায় একটি তাবু স্কুলে ক্লাস করার সময় ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হয় নয় বছর বয়সী শিক্ষার্থী রিতাজ রিহান। অন্য একটি হামলায় গাজা সিটিতে সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহসহ চারজন নিহত হন। এছাড়া বুরেইজে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে চালানো পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়। সপ্তাহান্তজুড়ে আরও হামলায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা এখনো গাজা যুদ্ধবিরতিকে দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিস্তৃত শর্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। ১৩ এপ্রিল রয়টার্স জানায়, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ৭৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সশস্ত্র হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়।
মানবিক পরিস্থিতিও এখনো অত্যন্ত ভয়াবহ। রাফাহ সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হন। পরে ১০ এপ্রিল ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানের মাধ্যমে ওই সীমান্তপথে আংশিকভাবে চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম আবার শুরু হয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বসতি পর্যবেক্ষক সংস্থা ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা সেখানে ৩৪টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। চলমান বসতি স্থাপনকারী সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু ঘটেছে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধকালীন সময়ে।