হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে বৈশ্বিক তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি লাফিয়ে ওঠে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ার পর বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে দিনের শুরুর দিকেই দাম কিছুটা কমে আসে। ০২:০৫ জিএমটি সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা শুক্রবার ছিল ৯০ দশমিক ৪০ ডলারের কিছু কম।সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা। তিনি দাবি করেন, ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করলে মার্কিন বাহিনী সেটি আটক করে।

 

এর আগে সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার বা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, একটি ট্যাংকারে ইরানি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। অন্যদিকে একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ধরনের প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। শুক্রবার তেহরান হরমুজ প্রণালিকে “সম্পূর্ণ খোলা” ঘোষণা করেছিল। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশটি অবস্থান বদলায়। যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কথা উল্লেখ করে ইরান আবারও নৌপথে কড়াকড়ির পথে যায়।

 

রোববার ট্রাম্প বলেন, দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য সোমবার একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাবে এবং সেখানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। তবে পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানায়, তেহরান ওই আলোচনায় অংশ নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, ওয়াশিংটনের “অতিরিক্ত দাবি” এবং “অবাস্তব প্রত্যাশা”কে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা। এর আগে দুই পক্ষ মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হয়।

 

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। সাধারণত এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ জরুরি জ্বালানি মজুত ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ১৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১০। তবে তা ঐতিহাসিক দৈনিক গড় ১৩৮টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অনেক কম।

 

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা দুর্বল হলেও সোমবার এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো ঊর্ধ্বমুখীভাবে লেনদেন শুরু করে। সকালের লেনদেনে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং সাংহাইয়ের এসএসই কম্পোজিট সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


সম্পর্কিত নিউজ