সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ‘ট্যাক্সেশনে’: অর্থমন্ত্রী

সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ‘ট্যাক্সেশনে’: অর্থমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের কর প্রশাসন ও কাস্টমস ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে সরকার ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কর নির্ধারণ বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়াতেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) আয়োজিত ‘প্রি-বাজেট রাউন্ড টেবিল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, “সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে এই ট্যাক্সেশনে।” তিনি উল্লেখ করেন, এ কারণেই সরকার কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার ভাষায়, “ট্যাক্সেশন ব্যবস্থাকে ডিজিটালের আওতায় আনা সবেচেয়ে বেশি অ্যাপ্রোপিয়েট।”

 

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হলে কর নির্ধারণে ব্যক্তি-নির্ভরতা কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজস্ব প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে করদাতাদের হয়রানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন জটিলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর পর খালাস পর্যন্ত যে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয়, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। “উই ক্যাননট অ্যালাও” উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকৃত কাঁচামাল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়, যার কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এতে একদিকে ব্যাংক ও বন্দরের খরচ বাড়ে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।

 

কাস্টমস হাউসে ব্যবহৃত স্ক্যানিং মেশিন অচল থাকার বিষয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “কেন নষ্ট হয়ে যায়? উই অল আন্ডারস্ট্যান্ড। স্ক্যানিং মেশিন কাজ করলে তো পাম গ্রিসিং হবে না। সো, স্ক্যানিং মেশিন গোজ আউট অব অর্ডার।” তার এই মন্তব্যে কাস্টমস কার্যক্রমে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

 

তিনি আরও জানান, এসব সমস্যার সমাধানে ব্যবসায়ী মহলের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

কাস্টমস প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, কাস্টমসের সবচেয়ে বড় সমস্যা নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে। তিনি বলেন, “কাস্টমসের সবচেয়ে বড় প্রবলেম হচ্ছে পলিসি মেকিং। কারণ এটাই সেই জায়গা যেখান থেকে সবকিছু রং হয়।” তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় যারা নীতিমালা তৈরি করেন, তারা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। “দে ডোন্ট নো দ্য ডিএনএ অব বাংলাদেশ,” মন্তব্য করেন তিনি।

 

এ কারণে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন অর্থমন্ত্রী।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরুসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে আয়োজিত এই গোলটেবিল আলোচনায় কর সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।


সম্পর্কিত নিউজ