{{ news.section.title }}
বায়ুদূষণে জাকার্তা-লাহোর শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান কত?
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। সাধারণত শীত ও শুষ্ক মৌসুমে দূষণের মাত্রা বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে বর্ষাকালেও নগরবাসী নিয়মিত নির্মল বাতাস পাচ্ছেন না বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও অনেক দিন ঢাকার বাতাসের মান মাঝারি থেকে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মধ্যে ঢাকার বাতাসের মান ‘সহনীয়’ বা মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সর্বশেষ সূচকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ৯৪ রেকর্ড করা হয়েছে। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৫টি শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১১তম।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, AQI স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে পড়ে।
আজকের তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার AQI স্কোর ১৭৩। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, শহরটির স্কোর ১৭১। এছাড়া চিলির সান্তিয়াগো ১৪৩, ভারতের দিল্লি ১৪২, ভিয়েতনামের হ্যানয় ১৩২, কঙ্গোর কিনশাসা ১২৯ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ১২৮ স্কোর নিয়ে দূষণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বাতাসের শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। শহরটির AQI স্কোর ছিল মাত্র ৯, যা খুবই ভালো বায়ুমানের নির্দেশক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং আশপাশের অঞ্চলের দূষিত বায়ু প্রবাহ। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসের ভাসমান কণার পরিমাণ কিছুটা কমলেও নগরায়ণ ও যানবাহনের চাপের কারণে দূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদানগুলোর একটি হলো সূক্ষ্ম বস্তুকণা বা PM2.5। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো মানুষের শ্বাসযন্ত্রের গভীরে প্রবেশ করে ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। AQI নির্ধারণের ক্ষেত্রে PM2.5, PM10, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং কার্বন মনোক্সাইডসহ একাধিক দূষক বিবেচনায় নেওয়া হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো যানবাহনের নির্গমন কমানো, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিল্প দূষণ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
তাদের মতে, রাজধানীর বায়ুমান সাময়িকভাবে ‘সহনীয়’ পর্যায়ে থাকলেও তা সন্তোষজনক নয়। বরং বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসতে কার্যকর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।