{{ news.section.title }}
হেলথ কার্ড নিয়ে সুখবর, প্রথম ধাপে পাবেন কারা
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার সারাদেশের নাগরিকদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচ জেলায় এই কর্মসূচি শুরু হবে। স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজেশন এবং নাগরিকদের চিকিৎসা সুবিধা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, স্বচ্ছ এবং তথ্যভিত্তিক করা সম্ভব হবে।
প্রথম ধাপে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় হেলথ কার্ড কার্যক্রম চালু হবে। শুরুতে নির্বাচিত জেলার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হেলথ কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি তদারকি করছেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, জনগণের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক একটি স্বতন্ত্র ইউনিক আইডি পাবেন। ওই আইডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসা ইতিহাস, পূর্ববর্তী রোগ, ব্যবহৃত ওষুধ, পরীক্ষার ফলাফল, টিকাদান তথ্য এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে দেশের যেকোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কার্ড ব্যবহার করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হেলথ কার্ডধারীরা সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা পাবেন। এছাড়া বছরে অন্তত একবার বিনামূল্যে মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, রোগ নির্ণয়ের প্রাথমিক খরচ কমিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা গ্রহণকে আরও সহজ করা সরকারের লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন এবং স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারের সঙ্গে হেলথ কার্ড সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমে আসবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়নে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুর ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে। তাই শুরু থেকেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তথ্য নিরাপত্তা, হাসপাতালের অবকাঠামো এবং জনবল প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, কার্যক্রম চালুর পর বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়ন আনতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, শুধু কার্ড চালু করলেই হবে না; প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে এর সুবিধা পায়, সেজন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, হাসপাতালগুলোতে আলাদা সেবা ডেস্ক এবং পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে হেলথ কার্ড দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।