{{ news.section.title }}
১৫০ সিসির বেশি বাইকে আসছে নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক হতে পারে টিআইএন
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর, ভ্যাট, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আসতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে উৎসাহ দিতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চমূল্যের যানবাহন ক্রয়ের সঙ্গে করদাতাদের তথ্য সংযুক্ত করে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাড়তে পারে করমুক্ত আয়সীমা
ব্যক্তি করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবরও থাকতে পারে নতুন বাজেটে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী ও সাধারণ করদাতারা কিছুটা কর-সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ভ্যাট ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের পরিকল্পনা
ভ্যাট প্রশাসনকে আরও কার্যকর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। সূত্রগুলো বলছে, ভ্যাট রিটার্ন মাসিকের পরিবর্তে তিন মাস পরপর জমা দেওয়ার সুযোগ চালুর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।এ ছাড়া টার্নওভার কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারকে করমুক্ত রাখার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ভ্যাট কাঠামো চালুর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। তবে করপোরেট করহার আপাতত অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সিগারেটের কাঁচামালে ৩০০ শতাংশ শুল্ক
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির অংশ হিসেবে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল এবং নিকোটিন আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আসতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মতে, তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তি, কমতে পারে চিকিৎসা ব্যয়
স্বাস্থ্য খাতে বেশ কয়েকটি কর-সুবিধার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং (স্টেন্ট) এবং চোখের লেন্সের ওপর বর্তমানে বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া ডায়ালাইসিস খাতে ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যা রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর
ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা এবং বৈদেশিক আয় অর্জনকারী ডিজিটাল পেশাজীবীদের জন্য কর ও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব আসতে পারে। প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তরুণ উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সৌর বিদ্যুতে শুল্ক ছাড়
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারের লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় কমানো।
মসলাজাতীয় পণ্যে শুল্ক কমানোর চিন্তা
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রফতানিকারকদের জন্য কর ছাড়
রফতানি খাতে নগদ প্রণোদনার ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। নতুন বাজেটে এই হার অর্ধেকে নামিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে রফতানিমুখী শিল্প খাত কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগতে পারে বিআইএন
ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে কর প্রশাসন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক তথ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আয়কর কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ভাবনা
আয়কর ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ আয়কর হার ৩০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পরবর্তী দুই বছরে তা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ভবিষ্যৎ কর সংস্কারের রূপরেখা হিসেবে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামগ্রিকভাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় হ্রাস, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের আনুষ্ঠানিকীকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ জানা যাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর।