{{ news.section.title }}
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য মালয়েশিয়া, এরপর চীন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সরকারি সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে যেতে পারেন তিনি। এরপর ২৩ জুন থেকে তিন দিনের সরকারি সফরে চীন যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে ভুটান ও সৌদি আরবের নাম বিবেচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া বর্তমান সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে। সরকার বর্তমানে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও প্রতিনিধিদল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুন থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ কারণে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল খাদ্য উৎপাদন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার মতো খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়া সফরের পর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে ঘিরেও কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। প্রতিবছর দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয় এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সময় চীনা বিনিয়োগের গতি কমে গেলেও বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে নতুন অর্থায়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বেইজিং সফর সেই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে পারে।
এছাড়া তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগে চীনের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।