{{ news.section.title }}
হার্টের রিং-এর দাম কমিয়েছে সরকার
দেশের লাখো হৃদরোগী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কার্ডিয়াক স্টেন্টের দাম কমিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন মডেলের স্টেন্টের দাম ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকায় সবচেয়ে বড় মূল্যহ্রাস হয়েছে সিলেন কভার্ড স্টেন্ট (Silene Covered Stent)-এর ক্ষেত্রে। আগে স্টেন্টটির মূল্য ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা, যা কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একক স্টেন্টেই রোগীরা ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দেশে বিদ্যমান বিক্রয়মূল্য পর্যালোচনা করে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় নিয়ে রোগী ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল, সেই প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বিশেষায়িত হৃদরোগ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে স্টেন্ট বিক্রি বা রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।
এছাড়া রোগীদের বিলিং ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলো স্টেন্টের মূল্যকে অন্য চিকিৎসা ব্যয়, সার্জারি ফি, ক্যাথল্যাব চার্জ বা হাসপাতাল প্যাকেজের সঙ্গে একত্রে দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। প্রতিটি খরচ আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে রোগী ও তার স্বজনরা স্পষ্টভাবে জানতে পারেন কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্টেন্ট প্রতিস্থাপন অনেক সময় রোগীর জন্য জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা হয়ে ওঠে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা আর্থিক সংকটে পড়েন। স্টেন্টের মূল্য কমানোর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের রোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং জরুরি চিকিৎসা গ্রহণে আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
বাংলাদেশে হৃদরোগ বর্তমানে অন্যতম প্রধান মৃত্যুঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনারি আর্টারি ডিজিজসহ বিভিন্ন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব রোগীর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে ব্লকেজ দূর করতে স্টেন্ট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। ফলে স্টেন্টের মূল্য হ্রাস শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মূল্য নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; বাজারে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। অতীতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই নতুন মূল্যতালিকা বাস্তবায়নে নিয়মিত বাজার তদারকি, হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন মূল্য কার্যকরের পর হাসপাতাল ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা অমান্য করলে বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্ডিয়াক স্টেন্টের মূল্য কমানোর এই সিদ্ধান্ত দেশের হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে রোগীরা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।