{{ news.section.title }}
সীমান্তে পুশইনের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা অপ্রতুল, অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি, পুশইন ইস্যু এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত পুশইনের শিকার মানুষরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, কিন্তু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ওই বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে সীমান্তে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের আরও সক্রিয় ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত অনেক মানুষ মৌলিক মানবিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আরও দৃঢ় ও দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন।
পুশইন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ধারাবাহিকভাবে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোট নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে একযোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া ১৫ জুন চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং একই দিনে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট। নেতারা জানিয়েছেন, সীমান্ত ইস্যু, জনস্বার্থ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সীমান্তে পুশইন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো প্রতিহত করতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।