তেল কিনতে ২০ জুন সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

তেল কিনতে ২০ জুন সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেল কেনার মূল্য নিয়ে সরাসরি সমঝোতার লক্ষ্যে আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সফরে মন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও থাকবেন।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য কমানোর সুযোগ খুঁজতেই মূলত এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের জ্বালানি খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর জন্য সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে অনুকূল মূল্য নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও কম দামে জ্বালানি সংগ্রহের কৌশল গ্রহণ করেছে।

 

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল কেনার দরদাম নিয়ে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কোনো জ্বালানিমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ঘটনা এর আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে এই সফরকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আমদানি ব্যয় কমাতে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ভালো চুক্তি নিশ্চিত করাই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

 

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ইতোমধ্যে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দরপত্র প্রক্রিয়ার বড় অংশ সম্পন্ন করেছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মূল্য ও সরবরাহসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

 

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই সফর সফল হলে দেশের জন্য তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় কমলে সরকারের ভর্তুকির চাপ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও স্থিতিশীল হবে।

 

অন্যদিকে দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বিপিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন পর্যন্ত দেশে অকটেনের মজুত রয়েছে ৫১ হাজার ৭৮ টন, পেট্রোল ২৮ হাজার ৮৩২ টন, জেট ফুয়েল ৫২ হাজার ৯০৪ টন, ডিজেল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৭ টন এবং ফার্নেস অয়েল ৯৪ হাজার ৮৫৮ টন।

 

সব মিলিয়ে বর্তমান মজুত দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা ৩২ দিনেরও বেশি সময় পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে ভবিষ্যতের চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার আমদানি কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় সরাসরি দরকষাকষি ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকগুলো থেকে অনুকূল ফল এলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ