পরীর বাসায় টানা ১ মাস রাত যাপন সাকলায়েনের!

পরীর বাসায় টানা ১ মাস রাত যাপন সাকলায়েনের!
ছবির ক্যাপশান, পরীর বাসায় টানা ১ মাস রাত যাপন সাকলায়েনের!

চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও নিয়মিত রাত্রিযাপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে আলোচিত বোট ক্লাব মামলার তদন্তের সূত্র ধরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে পরিচয় হয় গোলাম সাকলায়েনের। পরে সেই পরিচয় ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকে গড়ায় এবং দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়।

 

পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে প্রাপ্ত কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ফোনে আদান-প্রদান করা বার্তা এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, তাদের সম্পর্ক সাধারণ পেশাগত যোগাযোগের সীমা অতিক্রম করেছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে এটিকে ‘অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে, দিনে ও রাতে, গোলাম সাকলায়েন পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন। একই সময়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের তথ্যও পাওয়া যায়।

 

নথিপত্র অনুযায়ী, সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ১ আগস্ট। সেদিন সাকলায়েনের স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় পরীমনি রাজধানীর রাজারবাগে অবস্থিত তার সরকারি বাসভবনে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সকালে সেখানে প্রবেশ করেন এবং পরদিন ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাসা ত্যাগ করেন। অর্থাৎ প্রায় ১৭ ঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করেন।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে একজন আলোচিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন, ব্যক্তিগত সময় কাটানো এবং সরকারি বাসভবন ব্যবহার করা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

 

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, গোলাম সাকলায়েন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমনকি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ও জন্মদিন উদযাপনেও তাদের একসঙ্গে অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকার বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন পরীমনি। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। সেই মামলার তদন্ত চলাকালেই তাদের পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

 

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে মতামত চায়। পরবর্তীতে পিএসসি তাদের মতামত দিলে সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত নন। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খুব শিগগিরই গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
 


সম্পর্কিত নিউজ