নতুন পে-স্কেল চালু হলে বাতিল হবে বিশেষ সুবিধা

নতুন পে-স্কেল চালু হলে বাতিল হবে বিশেষ সুবিধা
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা বা স্পেশাল ইনসেনটিভের ভবিষ্যৎ। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এই অতিরিক্ত সুবিধা আর আলাদাভাবে বহাল থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা চালু রয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এই সুবিধাগুলো মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে আলোচনা চলছে।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চালুর ঘোষণা দেন। পরদিন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-এর নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।

 

আরও পড়ুন: ঢাকার বাস টার্মিনাল সরানোর সময় জানালেন মন্ত্রী

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন কাঠামোতে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধার বিষয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধাগুলো আলাদা সুবিধা হিসেবে না রেখে নতুন বেতন কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের নজর এখন সচিব কমিটির বৈঠকের দিকে।

 

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ