২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩৯ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম সংক্রমণে অন্তত ৯৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৫৭৩ জন শিশু। নিশ্চিত ও সন্দেহজনক-উভয় ধরনের মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত না হলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিলতার কারণে প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে অপুষ্টি, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য সংক্রমণ থাকলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

 

আরও পড়ুন: নবম পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত শতাংশ বাড়ছে বেতন

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ