দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে

দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

দেশের ৯ অঞ্চলের ওপর দিয়ে শনিবার (২০ জুন) দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসের ফলে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকায় এবং বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প বিদ্যমান থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে স্বল্প সময়ের জন্য বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার কিছু স্থানে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবহাওয়া কিছুটা বৈরী হতে পারে এবং নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। যদিও এটি বড় ধরনের বিপদ সংকেত নয়, তবুও ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে নদী ও জলাশয়ে ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

 

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে বজ্রঝড় বাংলাদেশের একটি সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। তাই বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদীতীর, জলাশয়, উঁচু স্থান এবং গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ফসল ও কৃষিযন্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পাশাপাশি গবাদিপশুকেও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এদিকে উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে আবহাওয়ার পরবর্তী বুলেটিনের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থানকারীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আবহাওয়ার অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা, নৌযান চালক, জেলে ও ভ্রমণকারীদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ