{{ news.section.title }}
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর, গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়
ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এ সফরে তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করবেন। সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দুটি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আশা করছে ঢাকা। এসব সমঝোতা বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, নদী ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতকে কেন্দ্র করে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সফরে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং পরিবেশগত সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হবে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগ বা গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তবে এসব উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে সফর শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরের প্রথম ধাপে ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া বর্তমানে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ নীতির পর্যালোচনা করছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতেই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান-এর সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। বর্তমানে আসিয়ানের সংলাপ অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পূর্ণ সদস্যপদের পথ সুগম করতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে ভারত বা চীনকে সরাসরি প্রথম গন্তব্য হিসেবে না বেছে মালয়েশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত রয়েছে। একইসঙ্গে সফরের দ্বিতীয় অংশে চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কয়েকদিন অবস্থান শেষে ২৬ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শ্রমবাজার, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন সমঝোতা তৈরি হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের পররাষ্ট্র নীতির দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করবে।