{{ news.section.title }}
কাল মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, চীন সফরে সই হতে পারে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল
সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফরে আগামীকাল রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রমবাজার, আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জন এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পাবে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সফরসূচি ও সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সফর আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত শ্রমবাজার পুনরায় সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যাবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তিনি চীনে অবস্থান করবেন। সফরকালে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং ২৬ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
চীন সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা এবং বহুল আলোচিত তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), ২টি আনুষ্ঠানিক চুক্তি, ১টি অ্যাকশন প্ল্যান এবং ১টি প্রটোকল।
তিনি বলেন, এসব দলিলের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, কৃষি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতাও আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হবে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ মোট ২৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল থাকবেন। সরকারি সূত্র বলছে, সফর দুটির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হবে।
বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সফরের সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।