{{ news.section.title }}
পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন নিয়ে যে তথ্য দিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন অর্থবছর থেকে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেনি সরকার। ফলে নতুন পে-স্কেল কবে কার্যকর হবে, কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে এবং কীভাবে এটি বাস্তবায়ন হবে-এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তবে ঘোষণার পর নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে, নাকি বর্তমান সরকার সংশোধিত কোনো কাঠামো চূড়ান্ত করবে-সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে এবং সেটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সেখানে বেতন কত বাড়বে, কত ধাপে বাস্তবায়ন হবে এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া হবে-এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। নতুন বেতন কাঠামো ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, একবারে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে, আর কার্যকর হতে দেরি হলে বকেয়া অর্থ পাওয়া যাবে কি না-এসব বিষয় নিয়েই আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক অনুমোদন, গেজেট প্রকাশ এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতেই কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও জানান, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে দেরি হলেও তা কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বকেয়াসহ পরিশোধের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন পে-স্কেল ‘যথাসময়েই’ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সেই সময়সীমা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। ইশতেহারে যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল এবং সে অনুযায়ী পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়েছে।
তবে গেজেট কবে প্রকাশ হতে পারে-এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানো হবে। কোন গ্রেডে কত বেতন নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হিসেবে মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের সংস্কার এবং অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সব প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি অথবা মাসের শেষ দিকে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। এরপরই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।