{{ news.section.title }}
তেহরানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকারের সাথে ইরানের স্পীকার বৈঠক অনুষ্ঠিত
ইরানের রাজধানী তেহরানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান সফরকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ গতকাল তেহরানে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই। পরে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইরানের সংসদীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বাংলাদেশের স্পিকার এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তিনি সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশ সবসময় শান্তি, আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে ইরানের ডেপুটি স্পিকার, ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্যরা এবং তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।