{{ news.section.title }}
পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ আজ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস-ট্রাকসহ গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিবহন খাতে চাপ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ার পাশাপাশি ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে আমদানিনির্ভর খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ার, টিউব ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বর্তমান ভাড়ায় পরিবহন পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে পরিবহন মালিকরা সরকারের কাছে দ্রুত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, জ্বালানির দাম ও সার্বিক পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ না করলে খাতটি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটি বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। যদিও শুধু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় আনলে এই বৃদ্ধি হওয়া উচিত প্রায় ১৫ পয়সা-তবে অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২ টাকা ৬৪ পয়সায়। অন্যদিকে দূরপাল্লার রুটে বিদ্যমান ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিবহন খাতের বিভিন্ন পক্ষ-কর্তৃপক্ষ, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানান, ভাড়া পুনর্নির্ধারণের একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা দ্রুতই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, যা পরদিন থেকে কার্যকর হয়। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়, অকটেন ১৪০ টাকায়, পেট্রোল ১৩৫ টাকায় এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে, যার ফলেই ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।