{{ news.section.title }}
জুলাই আহতদের মুখ দেখানোর জায়গা নাই: হাসনাত আবদুল্লাহ
জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথভাবে স্মরণ করতেও আমরা যেন লজ্জা পাই-এমন মন্তব্য করে সংসদে হতাশা প্রকাশ করেছেন এক সদস্য। তিনি বলেন, তাদের কাছে মুখ দেখানোর মতো অবস্থানও আমাদের নেই, কারণ এখন পর্যন্ত তাদের জন্য আমরা কার্যকরভাবে কিছুই করতে পারিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিতেই আজকের এই সংসদ এবং এই লড়াই। তার ভাষায়, এই সংগ্রাম কেবল কোনো একটি দলের ছিল না; এটি পুরো হাউজের, সামগ্রিকভাবে সবার লড়াই ছিল।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের সংসদীয় বিতর্কগুলো তিনি পড়ার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, যদি আজকের আলোচিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো ২০১৪ সালের সংসদে আনা হতো, তাহলে এই সংসদে একজন সদস্যও খুঁজে পাওয়া যেত না, যিনি এসব সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার কমিশনকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়েছে। যদিও বারবার বলা হচ্ছে, আরও শক্তিশালী কাঠামোয় মানবাধিকার কমিশন আবারও উত্থাপন করা হবে। একইভাবে পুলিশ সংস্কার কমিশন সম্পর্কিত অর্ডিন্যান্সও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হচ্ছে, পুনর্বিবেচনার পর বিষয়টি আবার সংসদে আনা হবে।
এ সময় তিনি বলেন, যেহেতু সবকিছুই সংশোধনের মধ্য দিয়ে যায়, তাই সদিচ্ছা থাকলে অর্ডিন্যান্সটি আগে গ্রহণ করে পরে সংশোধনের সুযোগ ছিল। তার মতে, সরকারের নিয়ত ও সদিচ্ছা ঠিক থাকলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল।
সরকারি দল ও বিরোধী দলের অবস্থানকে আপেক্ষিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ যারা এক পাশে আছেন, সময়ের পরিক্রমায় তারা অন্য পাশেও যেতে পারেন। জনগণ চাইলে এবং মানুষ ম্যান্ডেট দিলে ভবিষ্যতে আসন বিন্যাসও বদলে যেতে পারে।
তিনি সংসদের সব সদস্যকে নতুন প্রজন্মের ভাষা ও মানসিকতা বোঝার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই আহ্বান তিনি নিজেকেও করছেন-প্রজন্মের ভাষা পড়তে হবে, বুঝতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেই প্রজন্মের সন্তানের অভিভাবক, তারাও সেই একই প্রজন্মের অংশ। তাই নতুন প্রজন্মকে ধারণ করার চেষ্টা সবারই করা উচিত।
তিনি বলেন, এটি শুধু বিএনপির, শুধু জামায়াতের বা শুধু এনসিপির প্রশ্ন নয়; বরং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্ন। সেই জায়গা থেকেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষদিকে সংসদ সদস্যদের জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্নতার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, সংসদে বসে, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থেকে, এসি গাড়িতে চলাফেরা করে, মন্ত্রণালয়ের আরামদায়ক পরিবেশে এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মধ্যে থেকে সাধারণ মানুষের সমস্যা পুরোপুরি অনুধাবন করা যায় না। এ কারণেই অনেক সময় জনগণের বাস্তব কষ্ট সংসদে দাঁড়িয়ে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না।