‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জনগণের ওপর নয়, নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে’

‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জনগণের ওপর নয়, নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে’
ছবির ক্যাপশান, পুলিশ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সাধারণ জনগণের ওপর নয়, বরং দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।


মো. সরওয়ার বলেন, বর্তমানে যে ঘটনাগুলো আমরা দেখছি, সেগুলোর বেশিরভাগই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। সাধারণ জনগণকে টার্গেট করে কোনো সংগঠিত হামলার তথ্য আমাদের কাছে নেই।


তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি।


এই কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীতে চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধচক্র ভেঙে দেওয়া এবং ঢাকার মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। এজন্য নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট, ব্লক রেইড ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


ডিএমপি কমিশনার বলেন, অভিযানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান, আকস্মিক ব্লক রেইড, চেকপোস্ট স্থাপন ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে এবং তাদের পালানোর পথ রোধ করা হচ্ছে।


সন্দেহভাজনদের তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই শেষে ডিএমপির আটটি ডিভিশনে নিয়োজিত স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।


ডিবি ও সিটিটিসির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বাজার, কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ঝটিকা অভিযান চালানো হচ্ছে।


ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও তাদের সহযোগী ৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজির বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।


এছাড়া পৃথক অভিযানে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে পরিচালিত মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।


ডিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মন্তব্য করুন


সম্পর্কিত নিউজ