{{ news.section.title }}
সালাহর হাত ধরে বিশ্বকাপে ইতিহাস, ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান মিসরের
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে মোহাম্মদ সালাহর সাফল্যের গল্প অনেক পুরোনো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জনে ভরপুর তার ক্যারিয়ার। তবে দেশের জার্সিতে তাকে ঘিরে মিসরীয় সমর্থকদের দুটি বড় আক্ষেপ ছিল। একটি এখনও রয়ে গেছে-আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা। অন্যটি অবশেষে মুছে গেল ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে।
অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর অনুপ্রেরণামূলক পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিসর। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে জয়ে বড় অবদান রাখেন সালাহ। একইভাবে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন মোস্তাফা জিকো।
ম্যাচজুড়ে মিসরের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন সালাহ। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থাকা এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সর্বোচ্চ পাঁচটি শট নেন, প্রতিপক্ষের বক্সে ১৩ বার বল স্পর্শ করেন এবং সতীর্থদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। বয়স ৩৫ ছুঁলেও মাঠে তার গতিশীলতা ও নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে মিসরের যাত্রা খুব একটা সুখকর ছিল না। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ খেললেও কোনো জয় পায়নি দলটি। তিনটি আসরে মোট সাত ম্যাচ এবং চলতি আসরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জয়হীন ছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। অবশেষে নবম চেষ্টায় এসে সেই আক্ষেপ ঘুচল। প্রায় ৯২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে জয়ের আনন্দে ভাসল মিসর।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল নিউজিল্যান্ডের দখলে। ১৫ মিনিটে টিম পেইনের নেওয়া কর্নার থেকে ফিন সারম্যানের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় কিউইরা। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে গেলেও আক্রমণের ধার কমায়নি মিসর। প্রথমার্ধের শেষদিকে ইমাম আশুর এবং মোহাম্মদ সালাহ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয় দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মিসরকে দেখা যায়। ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়ল মিসর, বিশ্বকাপে এলো প্রথম জয়
৬৭ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে জিকোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান মোহাম্মদ সালাহ। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর।
এই গোলের মাধ্যমে নতুন এক ইতিহাসও গড়েন সালাহ। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল, যা তাকে মিসরের ইতিহাসে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল আবদেল ফাওজির দখলে, যার নামের পাশে ছিল দুটি গোল।
ম্যাচের ৮২ মিনিটে সালাহর নেওয়া কর্নার থেকে বদলি হিসেবে নামা ত্রেজেগে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে মিসরের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। যোগ করা সময়ে জিজো আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও তাতে জয়ের আনন্দে কোনো প্রভাব পড়েনি।
এই জয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপে নিজেদের অবস্থানও শক্ত করেছে মিসর। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা। গোল ব্যবধানেও এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে আফ্রিকার দলটি।
অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে দুই খেলায় মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে নেমে গেছে। ফলে তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপের প্রথম জয় অর্জনের পাশাপাশি শেষ ষোলোতে ওঠার পথও অনেকটাই পরিষ্কার করে ফেলেছে সালাহর মিসর। এখন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভালো ফল করতে পারলে শুধু নকআউট নয়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে।
দীর্ঘদিনের হতাশা, ব্যর্থতা ও অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস লিখেছে মিসর। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ।