{{ news.section.title }}
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পরিসংখ্যান কেমন?
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর লিওনেল মেসির দল। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও দারুণ ছন্দে থাকায় ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
ইতিহাস বলছে, এর আগে মাত্র দুইবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। তবে দুটি ম্যাচই ছিল প্রীতি ম্যাচ। ফলে প্রতিযোগিতামূলক কোনো টুর্নামেন্টে এই প্রথম একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামছে দল দুটি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথমবারের এই লড়াই তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তারও এক দশক আগে, ১৯৮০ সালে ভিয়েনাতেই অনুষ্ঠিত আরেকটি প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা। ফলে মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
বর্তমান ফর্ম বিবেচনায়ও এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচটিতে আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণভাগও ছিল দুর্দান্ত। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগই দেয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে খেলা চারটি প্রস্তুতি ম্যাচেও জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডকে ৩-০, হন্ডুরাসকে ২-০, জাম্বিয়াকে ৫-০ এবং মৌরিতানিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। অর্থাৎ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় নিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে মেসির দল।
আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গা হচ্ছে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল। লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, জুলিয়ান আলভারেজের গতিময়তা, এনজো ফার্নান্দেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টারের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী ডিফেন্স তাদের অন্যতম বড় ভরসা। এছাড়া বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যও দলটিকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দলটি। আক্রমণভাগে দ্রুতগতির ফুটবল এবং সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের শক্তির প্রধান জায়গা।
বিশ্বকাপের আগে তিনটি প্রীতি ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ১-০, দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ এবং ঘানাকে ৫-১ গোলে পরাজিত করে অস্ট্রিয়া। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। সব মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে কোনো হার না থাকায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই অস্ট্রিয়ান শিবিরেও।
গ্রুপ পর্বের সমীকরণ বিবেচনায় এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া যদি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় করতে পারে, তাহলে গ্রুপের হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সবকিছু মিলিয়ে ইতিহাস, বর্তমান ফর্ম এবং দলগত শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই বিশ্বকাপের এই লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে জমজমাট একটি ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ফুটবলভক্তরা।