{{ news.section.title }}
অস্ট্রিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা হারলে কী হবে?
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্কালোনির দল এখন গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে প্রথম ম্যাচের সাফল্য সত্ত্বেও দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যা শুধু গ্রুপের অবস্থানই নয়, নকআউট পর্বে সম্ভাব্য পথও নির্ধারণ করে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল সরাসরি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও পরবর্তী পর্বে উঠবে। ফলে একটি ম্যাচ হারলেই বিদায় নিশ্চিত নয়। কিন্তু বড় দলগুলোর জন্য শুধু টিকে থাকাই লক্ষ্য নয়; তারা চায় গ্রুপসেরা হয়ে তুলনামূলক সহজ পথ ধরে নকআউটে এগোতে।
সেখানেই অস্ট্রিয়া ম্যাচের গুরুত্ব।
গ্রুপ ‘জে’-এর বর্তমান চিত্র
প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৩ পয়েন্ট। একইভাবে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে অস্ট্রিয়াও। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় আপাতত শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে যদি অস্ট্রিয়া জয় পায়, তাহলে তারা ৬ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবে। তখন আর্জেন্টিনার পয়েন্ট থাকবে ৩।
সেই পরিস্থিতিতে শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে জয় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে মেসিদের জন্য। যদিও ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা প্রবল থাকবে, কিন্তু গ্রুপসেরা হওয়ার পথ অনেকটাই জটিল হয়ে যাবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপসেরা হওয়া?
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ নির্ধারণে গ্রুপ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্সআপ দল মুখোমুখি হতে পারে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়নের। আর সেই গ্রুপে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে স্পেন।
প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল ওয়ারসাবাল ও পেদ্রিদের নেতৃত্বে আবারও ছন্দে ফিরেছে স্পেন।
ফলে আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে শেষ ৩২-এই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
মেসির দুর্দান্ত শুরু, কিন্তু সামনে ভিন্ন পরীক্ষা
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ছিল প্রায় নিখুঁত।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও উঠে আসেন শীর্ষ সারিতে।
শুধু গোল নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো ডি পল এবং জুলিয়ান আলভারেজরা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ম্যাচকে একতরফা করে তুলেছিলেন।কিন্তু অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের।
কেন কঠিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া?
রালফ রাংনিকের দল গত কয়েক বছরে ইউরোপের সবচেয়ে সংগঠিত দলগুলোর একটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি উচ্চ গতির প্রেসিং ফুটবল। প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে গিয়ে দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করার কৌশলে তারা দক্ষ। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং ট্রানজিশনে ভয়ংকর কার্যকর। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে সেটিই দেখা গেছে।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় অস্ট্রিয়া। মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। ফলে আর্জেন্টিনাকে শুধু নিজেদের আক্রমণ নয়, বল হারানোর পর প্রতিক্রিয়াতেও সতর্ক থাকতে হবে।
স্কালোনির সামনে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানেন, এই ম্যাচে অস্ট্রিয়ার প্রেসিং ভাঙতে না পারলে বিপদে পড়তে হবে। বিশেষ করে মাঝমাঠে ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ এবং ডি পলের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে। কারণ অস্ট্রিয়ার চাপ কাটিয়ে দ্রুত বল সামনে পৌঁছে দিতে পারলে মেসি, আলভারেজ কিংবা লাউতারো মার্টিনেজ সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। অন্যদিকে রক্ষণভাগেও মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। অস্ট্রিয়ার দ্রুতগতির উইঙ্গার ও ফরোয়ার্ডরা কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক হতে পারে।
হারলে কী হবে?
আর্জেন্টিনা যদি অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে যায়, তাহলে তাদের পয়েন্ট থাকবে ৩। এরপর শেষ ম্যাচে জর্ডানকে হারালে তারা ৬ পয়েন্টে পৌঁছাবে। কিন্তু অস্ট্রিয়াও যদি শেষ ম্যাচে পয়েন্ট নেয়, তাহলে গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।
আর যদি আর্জেন্টিনা জর্ডানকেও হারাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করলে তৃতীয় হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে সেরা তৃতীয় দলগুলোর হিসাবের ওপর নির্ভর করতে হবে। আর ৩ পয়েন্টে শেষ করলে বিদায়ের শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
স্পেন কেন বড় আতঙ্ক?
বর্তমান স্প্যানিশ দলকে অনেক বিশ্লেষক ইউরোপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি মনে করছেন। তাদের দলে যেমন অভিজ্ঞতা আছে, তেমনি রয়েছে তরুণ প্রতিভার সমাহার।
লামিন ইয়ামাল, গাভি, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামসদের সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী একটি দল। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ জয়ের ম্যাচে তারা দেখিয়েছে, একবার ছন্দ পেয়ে গেলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাই আর্জেন্টিনা চাইবে না বিশ্বকাপের এত দ্রুত পর্যায়ে স্পেনের মতো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে।
মেসিদের জন্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’ ম্যাচ
বিশ্বকাপে অনেক সময় একটি ম্যাচ পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দেয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিও আর্জেন্টিনার জন্য তেমনই একটি ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে। জয় পেলে তারা প্রায় নিশ্চিতভাবেই শেষ ৩২-এর পথে এগিয়ে যাবে এবং গ্রুপসেরা হওয়ার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখবে।
ড্র করলে এখনও পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু হারলে শুধু পয়েন্টের হিসাবই বদলাবে না, বদলে যেতে পারে পুরো নকআউট পথও।
সেই কারণে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধুমাত্র গ্রুপ পর্বের আরেকটি ম্যাচ নয়। এটি হতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর একটি, যেখানে নির্ধারিত হবে মেসিদের সামনে অপেক্ষা করছে তুলনামূলক সহজ পথ, নাকি স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগেভাগেই কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে।