{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপে ১২ বছর পর জয়ের স্বাদ পেল আলজেরিয়া
বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে অবশেষে জয়ের দেখা পেল আলজেরিয়া। জর্ডানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২–১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। এই জয়ের মাধ্যমে ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে জয় পেল আলজেরিয়া এবং শেষ ৩২-এ ওঠার আশা জিইয়ে রাখল তারা।
দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে মাঠে নেমেছিল। ফলে ম্যাচটি কার্যত ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে পরিণত হয়। পরাজিত দল প্রায় বিদায়ের পথে চলে যাবে, আর জয়ী দল পাবে নকআউটে ওঠার নতুন আশা। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতে জর্ডানই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে।
প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল জর্ডান। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে বারবার চাপ সৃষ্টি করে তারা। ৩৬ মিনিটে সেই চাপেরই ফল পায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে গোল করেন নিজার আল রুশদান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে জর্ডানের প্রথম লিড এনে দিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি।
গোলের পর জর্ডানের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। প্রথমার্ধের বাকি সময় তারা আলজেরিয়ার আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখে। বিরতিতে ১–০ গোলের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে জর্ডান।
তবে স্কোরলাইনে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল আলজেরিয়া। বিশেষ করে রিয়াদ মাহরেজ একবার একা গোলরক্ষকের সামনে চলে গিয়েও গোল করতে পারেননি। জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা অসাধারণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আলজেরিয়ার কোচ কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। আক্রমণভাগে গতি বাড়াতে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় নাদির বেনবুয়ালিকে। এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
৬৯ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ হেডে গোল করে সমতা ফেরান বেনবুয়ালি। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র পঞ্চম ম্যাচ খেলতে নেমে দ্বিতীয় গোল করেন এই স্ট্রাইকার। গোলের পর আলজেরিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে মেসি, প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
সমতা ফেরানোর পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আফ্রিকার দলটি। জর্ডান রক্ষণে নেমে গেলেও আলজেরিয়ার একের পর এক আক্রমণ থামাতে পারেনি।
অবশেষে ৮২ মিনিটে আসে ম্যাচের নির্ধারণী মুহূর্ত। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে গোল করেন আমিন গোরি। তার বাঁ পায়ের শট জর্ডানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলেই ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া।
শেষদিকে জর্ডান সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়। অতিরিক্ত সময়েও কয়েকটি আক্রমণ করেছিল জর্ডান, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে আলজেরিয়ার আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। বলের দখল, আক্রমণ এবং লক্ষ্যভেদী শটে তারা এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আলজেরিয়া জর্ডানের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং শেষ পর্যন্ত তারই ফল পায়। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১২ বছরের জয়খরা কাটাল আলজেরিয়া। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়হীন ছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
অন্যদিকে জর্ডানের জন্য এটি ছিল হতাশার রাত। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে লিড নেওয়ার পরও সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি তারা। পরপর দুই ম্যাচে হেরে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে গেছে।
রিয়াদ মাহরেজ যদিও গোল করতে পারেননি, তবে ম্যাচে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি একাধিক আক্রমণ তৈরি করেছেন তিনি। দলের অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে পুরো ম্যাচেই তিনি সতীর্থদের উজ্জীবিত করেছেন। এই জয়ের ফলে আলজেরিয়ার সামনে এখন স্পষ্ট সমীকরণ। শেষ ম্যাচে জয় পেলেই তারা শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে পারবে। অন্যদিকে জর্ডানের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ এবং অন্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভরতা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকান দলগুলোর লড়াকু মানসিকতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল এই ম্যাচ। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আলজেরিয়া, তা তাদের সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শেষ ম্যাচে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলেই ১২ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে তাদের সামনে।