{{ news.section.title }}
২০৩০ বিশ্বকাপেও কি দেখা যাবে মেসিকে?
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি লিওনেল মেসি। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও আর্জেন্টাইন মহাতারকার পারফরম্যান্স এখনও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করছেন, বয়স তার জন্য কেবল একটি সংখ্যা। আর সেই পারফরম্যান্স দেখে এবার বিস্ময়কর মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ও অ্যাস্টন ভিলার কিংবদন্তি গ্যাবি অ্যাগবনলাহর।
টকস্পোর্টের এক আলোচনায় তিনি বলেন, যদি লিওনেল মেসি তার প্রিয় ক্লাব অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেন, তাহলে ক্লাবটি শুধু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাও জিততে পারে। তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমবাপ্পে-হ্যালান্ডদের বাদ দিয়ে মেসিকে বেছে নিলেন গ্যাবি
বর্তমান ফুটবল বিশ্বে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হ্যালান্ড কিংবা হ্যারি কেনের মতো তারকারা যখন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিচ্ছেন, তখন অ্যাগবনলাহর কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের ক্লাবের জন্য বেছে নিয়েছেন মেসিকে। তার মতে, এখনও এমন কোনো ফুটবলার নেই, যিনি ম্যাচের গতি, সৃজনশীলতা এবং গোল করার ক্ষমতায় মেসির সমকক্ষ হতে পারেন। অ্যাগবনলাহরের ভাষায়, মেসি শুধু একজন গোলদাতা নন, তিনি পুরো একটি দলের ফুটবল বদলে দিতে পারেন।
সাবেক এই ইংলিশ স্ট্রাইকার মনে করেন, অ্যাস্টন ভিলার বর্তমান দল এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে মেসির মতো একজন ফুটবলার যুক্ত হলে ক্লাবটি ইংল্যান্ড ও ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিরোপার জন্য লড়াই করতে পারবে।
বিশ্বকাপে রেকর্ডের পর রেকর্ড
চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সই মূলত অ্যাগবনলাহরের এই আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও দুটি গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই দুই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর মাধ্যমে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত যে পাঁচটি গোল করেছে, তার সবকটিই এসেছে মেসির পা থেকে।
টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল
মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও ব্যাপক আলোচনা করছে। টকস্পোর্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার বিশ্বকাপের শেষ দিক থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছিলেন মাত্র দুজন ফুটবলার-ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহো।
এই ধারাবাহিকতাই নতুন করে প্রমাণ করছে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও মেসি এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
‘মেসিকে দেখা মানে ৯০ মিনিটের কনসার্ট’
কাতার বিশ্বকাপে গ্যালারি থেকে মেসির খেলা দেখার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন অ্যাগবনলাহর। তার মতে, মেসির খেলা দেখা শুধু ফুটবল দেখা নয়, বরং ৯০ মিনিটের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, মাঠে মেসিকে দেখলে মনে হয় দর্শকরা যেন কোনো সংগীতানুষ্ঠান বা কনসার্ট উপভোগ করছেন। ফুটবলের প্রতি মেসির দৃষ্টিভঙ্গি, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলতে পারেন মেসি
ফুটবল বিশ্বের একটি বড় অংশ মনে করছে, চলমান বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন মেসি। তবে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন অ্যাগবনলাহর। তার বিশ্বাস, বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেস ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যেতে পারে মেসিকে। সেই সময় মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। তবুও সাবেক এই ইংলিশ ফুটবলার মনে করেন, মেসির খেলার ধরন এমন যে বয়স তার পারফরম্যান্সে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
ইউরোপ ছেড়ে এমএলএসে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক
মেসির ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে যোগ দেওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, মেসির মতো ফুটবলারের এখনও ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলার সামর্থ্য রয়েছে। টকস্পোর্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেই মনে করেন মেসি এখনও প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা কিংবা সিরি আ’র মতো প্রতিযোগিতামূলক লিগে সফল হতে পারতেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি শুধু নিজের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করেননি, বরং দেশটিতে ফুটবলের জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন।
কে এই গ্যাবি অ্যাগবনলাহর
গ্যাব্রিয়েল অ্যাগবনলাহর ইংল্যান্ডের সাবেক পেশাদার ফুটবলার। পুরো ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন অ্যাস্টন ভিলায়। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ৩৯১ ম্যাচ খেলে ৮৭ গোল করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ক্লাবটির প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অবসরের পর বর্তমানে টকস্পোর্টের নিয়মিত বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন।
বয়সের বিরুদ্ধে মেসির লড়াই
৩৯ বছরে পা দিয়েও মেসির বর্তমান পারফরম্যান্স অনেক তরুণ ফুটবলারের জন্যও অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপে তিনি শুধু গোল করছেন না, বরং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন, সুযোগ তৈরি করছেন এবং দলের নেতৃত্বও দিচ্ছেন। মেসির এই পারফরম্যান্সের কারণে অনেকেই মনে করছেন, তিনি শুধু নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখছেন না, বরং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্বের একটি উদাহরণও তৈরি করছেন।
গ্যাবি অ্যাগবনলাহরের ভাষায়, ফুটবল বিশ্বের সৌভাগ্য যে তারা এখনও মেসিকে মাঠে দেখার সুযোগ পাচ্ছে। আর যদি তার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়, তাহলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও হয়তো ফুটবলপ্রেমীরা আবারও আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির জাদু দেখতে পারবেন।