{{ news.section.title }}
ম্যাচের আগেই বিতর্ক, কী অভিযোগ উঠল কেপ ভার্দে অধিনায়কের বিরুদ্ধে?
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচের অপেক্ষায় কেপ ভার্দে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে মাঠের এই স্বপ্নযাত্রার মাঝেই বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস।
ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবোসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের সময় এক ব্রাজিলিয়ান নারী দোভাষীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ চলাকালে। কেপ ভার্দে দলের জন্য ভাষাগত সহায়তা দিতে ওই নারীকে দোভাষী ও অপারেশনাল সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারী নারীর দাবি, চিলির বিপক্ষে একটি ম্যাচের পর তাঁকে দলের একটি কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডাকা হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক সভা নয়, বরং একটি সামাজিক আড্ডা।
তিনি জানান, শরীর খারাপ লাগায় নিজের কক্ষে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দরজা খুললে রায়ান মেন্দেস তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর জোরপূর্বক তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে শারীরিক হামলার অভিযোগও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ওই নারী শরীরে আঘাতের ছবি, চিকিৎসা নথি ও পুলিশের কাছে দেওয়া বিবরণ জমা দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং হোটেলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগকারী নারী প্রথমে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন। তবে সেখান থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ফিফা এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনকেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ড ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ফিফাকে অবহিত করেছে বলেও জানা গেছে। ফিফা অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
এদিকে রায়ান মেন্দেস এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁর আইনজীবী কিংবা কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মাঠের পারফরম্যান্সে অবশ্য কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলকে পেছনে ফেলে গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউটে উঠেছে। অধিনায়ক হিসেবে রায়ান মেন্দেসও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে এই অভিযোগ পুরো কেপ ভার্দে শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। একদিকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠার লড়াই, অন্যদিকে অধিনায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি তদন্ত-দুই বিপরীত বাস্তবতার মাঝেই এখন দাঁড়িয়ে আফ্রিকার এই ছোট্ট দেশটি।
তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং আদালতে কোনো রায় হয়নি। ফলে আইনগতভাবে রায়ান মেন্দেস এখনো অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন। পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে এই আলোচিত ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি।