{{ news.section.title }}
সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার হয় কুমিল্লায়
ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে কুমিল্লা জেলা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হারে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা। এই হার ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে কুমিল্লা জেলা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হারে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা। এই হার ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে ব্যবহার ২০২৪-২৫ শীর্ষক এ জরিপে এই প্রথম জেলাভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, স্মার্টফোন ব্যবহারের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফেনী। এই জেলায় ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ ও ঢাকা জোলায় ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। পঞ্চগড়ে স্মার্টফোন ব্যবহার সবচেয়ে কম, মাত্র ৫০ দশমিক ১ শতাংশ। স্মার্টফোনে পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় এই হার ৬৬ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৬৫ শতাংশ।
বিবিএসের ব্যক্তিপর্যায়ে আইসিটির ব্যবহারের জরিপে বলা হয়েছে, দেশের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মুঠোফোন আছে। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ ও ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। ব্যক্তিপর্যায়ে স্মার্টফোন ব্যবহার প্রায় ৩১ শতাংশ, দিনে অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করে। নিজস্ব কম্পিউটারের মালিক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। স্মার্টফোনের মালিক ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
দিনে অন্তত একবার মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে। এ ছাড়া গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী।
পরিবারভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী বিবিএসের জরিপে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে মুঠোফোন ব্যবহার হয়। এ ছাড়া পরিবারে স্মার্টফোন ব্যবহারের পরিমাণ ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। ল্যান্ডফোন ব্যবহার অনেক কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের মানুষ। পরিবারে কম্পিউটার ব্যবহারের পরিমাণ ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহার হয় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ কী কাজ করে, সে বিষয়টিও জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সেবা বা পণ্য কিনে থাকে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য। ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। এর পরই ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে খেলাধুলার তথ্য জানতে ইন্টারনেটের ব্যবহার হয়।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজের বাইরে নিরাপত্তা সচেতনতার কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার।
এ ছাড়া উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জরিপের এ ফলাফল থেকে স্পষ্ট, দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলেও এর সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী সেবার নিশ্চয়তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।