রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা

রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা
ছবির ক্যাপশান, রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর ভারতীয় রুপির বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। সাম্প্রতিক মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তনে বাংলাদেশি মুদ্রার মান বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি কার্যক্রম এবং ভারতগামী যাত্রীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশি ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭৯ ভারতীয় রুপি। অথচ অল্প কিছুদিন আগেও একই পরিমাণ টাকায় মিলত প্রায় ৭৩ রুপি। একইভাবে ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে আগে প্রায় ১৪০ টাকা খরচ করতে হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৩ টাকায়।

 

মুদ্রা বিনিময় হারের এই পরিবর্তন বিশেষভাবে উপকারে আসছে ভারত ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্য। প্রতিবছর চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারত সফর করেন। রুপির উচ্চমূল্যের কারণে এতদিন তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতো। এখন টাকার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ভ্রমণ ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে ভিসা ফি, ভ্রমণ কর, বন্দর চার্জ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে মুদ্রার বিনিময় হার অনুকূলে থাকলে ভ্রমণ ব্যয় কমে আসে এবং সাধারণ যাত্রীরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পান।

 

শুধু ভ্রমণ নয়, ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। রুপির বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়ায় একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য আমদানিতে এখন আগের তুলনায় কম টাকা ব্যয় হবে। এতে আমদানিকারকদের খরচ কমার পাশাপাশি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশি টাকার মান বাড়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানির খরচ কমবে। এর ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আমদানিকারকরা নতুন করে উৎসাহ পাবেন।

 

ভারতগামী যাত্রীদের মধ্যেও দেখা গেছে স্বস্তির অনুভূতি। বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পাসপোর্টধারী রাশেদুজ্জামান বলেন, টাকার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত সফরের ব্যয় কিছুটা কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক খবর।

 

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের মধ্যে ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার অবস্থান বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল আগামী দিনে আরও বাড়বে।

 

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) একদিনেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৬ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। একই দিনে ৩৪৫টি ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন হয়েছে।

 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, বাংলাদেশি টাকার এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সীমান্ত অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


সম্পর্কিত নিউজ