{{ news.section.title }}
বাবাকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বলা স্লিপ অব টাং’: জামায়াত এমপি
জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়া জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম এবার দাবি করেছেন, তার ওই বক্তব্য ছিল ‘স্লিপ অব টাং’ বা অসাবধানতাবশত মুখ ফসকে বলা কথা।
বুধবার (১৭ জুন) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নীলফামারী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুলবশত তিনি তার বাবাকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বাস্তবে তার বাবা এখনো জীবিত এবং সুস্থ আছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল মুনতাকিম বলেছিলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা।”
তিনি আরও দাবি করেন, তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং তার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকদের একজন ছিলেন।
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হলে তিনি কীভাবে ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করলেন ।
এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে বুধবার তিনি ব্যাখ্যা দেন। মুনতাকিম বলেন, “আমার কথা বলতে গিয়ে স্লিপ অব টাং হয়ে গেছে। আমার বাবা আলহামদুলিল্লাহ এখনো বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন।”
তিনি আরও জানান, হলফনামায় উল্লেখিত তার জন্মসাল ১৯৮১ সঠিক এবং সে তথ্য নিয়েও কোনো বিভ্রান্তি নেই।
তবে সংসদে দেওয়া আরেকটি বক্তব্য, অর্থাৎ তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবির ক্ষেত্রেও তিনি সংশোধিত অবস্থান তুলে ধরেন। মুনতাকিম বলেন, পারিবারিকভাবে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ সদস্য থাকলেও ৪৭ জনের সংখ্যা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, “পরে আমরা পারিবারিকভাবে খোঁজ নিয়েছি। সংখ্যাটা সঠিক হয়নি। অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।”
পরিবারে কারা শহীদ হয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার দাদার ভাই দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। তবে তার দাদা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও শহীদ হননি।