{{ news.section.title }}
মমেক হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু বেড়ে ৫১ জনে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে হাসপাতালটিতে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
রোববার (১৪ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ছিল আড়াই বছর। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়। গত ৪ জুন হামের লক্ষণ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন সকালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, হামের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৮৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৯৪০ জন। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে আরও ২৮ জন রোগী।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ জেলা থেকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো ১ হাজার ৩৬২টি নমুনার মধ্যে ২০৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে জেলার জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সেবার মান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। চিকিৎসা নিতে এসে অনেক পরিবারকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা আরিফ মিয়া বলেন, প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে বেডের সংকট এখনও রয়ে গেছে। আইসিইউ সুবিধাও সীমিত। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হয়ে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।