{{ news.section.title }}
রাউজানে যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাউজানের বেতাগী এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তাকে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরে পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় অবস্থানকালে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কাছে এসে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, গুলির আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের মরদেহের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে মরদেহের বীভৎস দৃশ্যের কারণে ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন মহল এ ধরনের সংবেদনশীল ভিডিও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, এলাকায় বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এছাড়া তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিও ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের আগে হত্যার কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।