নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার, পুলিশের দাবি আত্মগোপনে ছিলেন জিসান

নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার, পুলিশের দাবি আত্মগোপনে ছিলেন জিসান
ছবির ক্যাপশান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধানকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি অপহরণ নয়, বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেছেন, তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে জিসানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত ৮টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার সকালে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

 

উদ্ধারের পর হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জিসান বলেন, মসজিদ থেকে বের হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে থামে। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক গাড়ির ভেতরে তুলে নেয়। এর পরবর্তী ঘটনা তার মনে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

 

তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি ব্যক্তিগত একটি ঘটনার জেরে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।

 

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে নিজের ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিয়েছিলেন।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে বিয়ে না করার উদ্দেশ্যে জিসান আত্মগোপনে যান এবং নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আনতে তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জিডি করানো হয়।

 

এদিকে জিসানকে উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জিসানকে অপহরণ করা হয়নি। ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ওই নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী জানান, নিখোঁজের জিডি হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছিল। তদন্তে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ