‘প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়’, মারধরের পর যা বললেন সেই কলেজ শিক্ষিকা

‘প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়’, মারধরের পর যা বললেন সেই কলেজ শিক্ষিকা
ছবির ক্যাপশান, ‘প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়’, মারধরের পর যা বললেন সেই কলেজ শিক্ষিকা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক নারী শিক্ষককে জুতাপেটা, অধ্যক্ষসহ কয়েকজনকে মারধর ও অফিসকক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহত নারী শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে টাকা দিতে হতো। টাকা দিতে না পারার কারণেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

 

আহত অবস্থায় আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইতেন, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদা দাবি। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন।

 

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করে বলেন, তিনি দেশবাসীর কাছে বিচার চান। তার বক্তব্যে ঘটনার ভয়াবহতা ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে আসে।

 

হামলায় কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও কয়েকজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কলেজে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল।

 

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজে প্রবেশ করেন। এরপর অধ্যক্ষের কক্ষে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

 

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, সরকারি আদেশে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ চাঁদা না দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

 

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, কলেজের আগের অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার দাবি, শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরাই প্রথমে তাদের ওপর হামলা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

 

ঘটনার পর আকবর আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

দুর্গাপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 


সম্পর্কিত নিউজ