জকিগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ

জকিগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত এলাকায় এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই যুবককে গুলি করে হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে। তবে এ অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নিখোঁজ যুবকের নাম ডিপজল আহমদ। তিনি বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রাম গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। বিজিবি জানিয়েছে, ডিপজল এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে গুলি চালায়। এ সময় ডিপজলের সঙ্গে থাকা অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে এলেও তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মুকিত বলেন, চারজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করার পর বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। যারা ফিরে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন ডিপজলকে গুলি করার পর তার মরদেহ বিএসএফ নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে।

 

নিখোঁজের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী কিন্নখাল ৩১ নম্বর বিওপি সংলগ্ন জিরো লাইনের কাছ থেকে এক ভারতীয় কৃষককে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। এতে সীমান্তের দুই পাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিক রঞ্জিত দাসকে ফেরত দেওয়া হয়।

 

বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু বলেন, বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি জীবিত না মৃত, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সীমান্ত এলাকার লোকজনের পক্ষ থেকে গুলিতে একজন নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।

 

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বলেন, নিখোঁজ যুবক এখনো উদ্ধার হয়নি। স্থানীয়রা গুলিতে হত্যার অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিএসএফও এমন কোনো ঘটনার কথা স্বীকার করেনি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ