{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান, জেনে নিন ৩ কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নৌ অবরোধ এবং হুমকি-এই তিনটিই “প্রকৃত আলোচনার” প্রধান প্রতিবন্ধক। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই সংলাপ ও সমঝোতার বিরোধী ছিল না। হিন্দুস্তান টাইমস, ডন এবং গার্ডিয়ানের লাইভ কভারেজে তার এই বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে।
পেজেশকিয়ান তার পোস্টে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান সবসময়ই সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এখনো জানায়। তবে তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে দাবি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। ডন-এর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, “commitments breach, blockade and threats” এখন আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা। গার্ডিয়ানও একই বার্তাকে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।
এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বাড়াবে, তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ চালিয়ে যাবে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একই মাত্রার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কি না, তা তখনও স্পষ্ট ছিল না।
ইরানের প্রধান আপত্তির জায়গা এখনো হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দর ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ। রয়টার্সের ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পুনরায় হামলার পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার পর ইরান হরমুজে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে এবং দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে। একই প্রতিবেদনে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইরানি বন্দর অবরোধ বহাল থাকলে টেকসই শান্তির পথও অবরুদ্ধ থাকবে।
এদিকে আলোচনায় নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে হরমুজে জাহাজ জব্দের ঘটনা। রয়টার্সের ২২ এপ্রিলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি MSC Francesca এবং Epaminondas নামে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। আইআরজিসির দাবি, জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপি করেছিল। একই দিনে অন্তত তিনটি জাহাজে গুলিবর্ষণেরও খবর আসে। এই ঘটনাগুলো যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।
পাকিস্তান এখনো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয়। রয়টার্স এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ নতুন দফার আলোচনা আয়োজনে আগ্রহী এবং যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়েও ভূমিকা রেখেছে। তবে তেহরানের আপত্তি, মার্কিন অবরোধ এবং আস্থার সংকটের কারণে সম্ভাব্য বৈঠকের সময় ও কাঠামো এখনো অনিশ্চিত।