{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান, স্মরণ করা হচ্ছে ১২ দিনের যুদ্ধের নিহতদের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোলেও রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে গত বছরের রক্তক্ষয়ী ১২ দিনের যুদ্ধের বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। একদিকে সম্ভাব্য শান্তি ও সহযোগিতা চুক্তির আশা, অন্যদিকে যুদ্ধের স্মৃতি, এই দুই বাস্তবতার মধ্যেই দিন পার করছে দেশটি।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন।
তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বর্তমানে কার্যকর ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে একটি বিস্তৃত শান্তি ও সহযোগিতা চুক্তিতে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিভিন্ন শহরে ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত চলা যুদ্ধের সময় নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। ইসরাইলের ভাষায় ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে পরিচিত ওই সংঘাতে ইরানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতা নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি এবং দীর্ঘদিনের মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রধান আলী আকবর হাজিজাদেহ।
সরকারি প্রচারণায় এসব কর্মকর্তাকে আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার এবং রাষ্ট্রীয় বার্তায় তাদেরকে শিয়া ইসলামের শহীদী আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যুদ্ধের সময় নিহত পরমাণু বিজ্ঞানী ও গবেষকদের স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি, যিনি সংঘাত চলাকালে নিহতদের অন্যতম ছিলেন।
ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ওই ১২ দিনের সামরিক অভিযানে এক হাজারের বেশি ইরানি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে শত শত বেসামরিক নাগরিক এবং বহু শিশুও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান বর্তমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের প্রায় অর্ধেকই বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে ইরান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ সংঘাতের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। শনিবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে তাকে মাশহাদের একটি শিয়া ধর্মীয় স্থাপনায় দাফন করা হবে।