{{ news.section.title }}
ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট
সোমালিয়ার স্বঘোষিত স্বাধীন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহি (চিরো) প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সম্ভাব্য এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল এবং লোহিত সাগরকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট চিরো সোমবার বা মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের তেল আবিবে পৌঁছাতে পারেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরকে ঘিরে তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক সফরের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে জানান, সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারেন। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সফরসূচি নিশ্চিত করেনি।
এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে, সম্প্রতি সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
১৯৯১ সালে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ভেঙে পড়ার পর সোমালিল্যান্ড নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলেও দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। নিজস্ব সরকার, সংসদ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনিক কাঠামো থাকলেও অধিকাংশ দেশ এখনো অঞ্চলটিকে সোমালিয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে। ফলে ইসরায়েলের স্বীকৃতি এবং পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে সোমালিল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটের কাছাকাছি অবস্থান করছে। অঞ্চলটি এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখের নিয়ন্ত্রণকারী এলাকাগুলোর একটি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে চলাচল করে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট ইসরায়েলকে নতুন কৌশলগত অংশীদার খুঁজতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সোমালিল্যান্ডের বিপরীত তীরে অবস্থিত ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হুতিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বা ইসরায়েলমুখী বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তারা ইসরায়েলগামী জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষায় সোমালিল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ভবিষ্যতে সোমালিল্যান্ডের বন্দর ও উপকূলীয় অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে।
অন্যদিকে, সোমালিল্যান্ডের জন্যও এই সম্পর্ক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার মধ্যে ইসরায়েলের সমর্থন অঞ্চলটির কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য এই সফর ইতোমধ্যে আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং দুই পক্ষ নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে লোহিত সাগর ঘিরে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা, ইয়েমেনে হুতিদের তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা প্রশ্নে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন সোমালিল্যান্ড-ইসরায়েল সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।