ফের বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ফের বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা বেড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার মধ্যে মঙ্গলবারও অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.৬৮ ডলারে পৌঁছায়, আর মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই উঠে যায় ৯৬.৯৬ ডলারে। আরেকটি সমসাময়িক বাজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ১০৯.৩০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৯৭.২৮ ডলার ছুঁয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ স্পষ্ট, যদিও লেনদেনের সময়ভেদে সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে এই চাপের বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহ-ঝুঁকি। বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে যায়, ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়লেই বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। সাম্প্রতিক অচলাবস্থা এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

 

কূটনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি ইতিবাচক নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন, কারণ তাতে শুরুতেই পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, ইরানের পারমাণবিক বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রীয় অংশ হতে হবে।

 

হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। মার্কিন প্রশাসন বলেছে, তারা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি করতে আগ্রহী নয় এবং সংবেদনশীল আলোচনাকে প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে চালাতে চায় না। অর্থাৎ, যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও প্রকাশ্য আলোচনার সুযোগ এখন খুব সীমিত।

 

আরো পড়ুন : ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন সংঘর্ষ, নিহত ১৪

 

এই অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। সোমবারও তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন দাম বাড়ার পেছনে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি ভূমিকা রাখছে।

 

তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ে, উৎপাদন খরচ বাড়ে, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দামেও চাপ পড়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি ও সরবরাহ-চাপ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


সম্পর্কিত নিউজ