{{ news.section.title }}
এক ধাক্কায় পাকিস্তানে পেট্রোল ৭৪ ও ডিজেল ৬৭ রুপি কমল
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করায় দেশের জনগণকে বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে নজিরবিহীন হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৭৪ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৬৭ রুপি কমানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার (১৯ জুন) এই ঘোষণা দেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন, আরব নিউজ পাকিস্তান এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন মূল্য কার্যকর হলে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৩৭৩.৭৮ রুপি থেকে কমে ২৯৯.৭৮ রুপিতে নেমে আসবে। একইভাবে হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৩৭৮.৭৮ রুপি থেকে কমে দাঁড়াবে ৩১১.৭৮ রুপিতে। পাকিস্তান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির কারণে এই সুবিধা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের মানুষ কঠিন সময়ে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে তার পূর্ণ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে পাকিস্তানকে জ্বালানি খাতে বড় চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছিল। মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় পাকিস্তান প্রথম দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়। সে সময় পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩২১.১৭ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৩৩৫.৮৬ রুপিতে উন্নীত করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এপ্রিলের শুরুতে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম ৪৫৮.৪০ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৫২০.৩৫ রুপিতে উন্নীত করে। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে জ্বালানি তেলের অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি। সেই সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে সমালোচনা, প্রতিবাদ এবং জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছিল।
পরবর্তীতে সরকার ধাপে ধাপে কিছু মূল্য কমালেও এবারের ৭৪ রুপি ও ৬৭ রুপির হ্রাসকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মূল্যছাড়গুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন যেন এর সুবিধা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সাপ্তাহিক মূল্য নির্ধারণের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করবে, যাতে সাধারণ মানুষ মূল্য পরিবর্তনের কারণ সহজে বুঝতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের সাম্প্রতিক পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার খবরে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যদিও শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারপরও বাজারে সরবরাহ সংকট কমার আশা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমার ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্পখাতের পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্যহ্রাস কৃষিখাত ও পণ্য পরিবহন খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পেট্রোলের দাম কমায় মোটরসাইকেল চালক, রিকশাচালক, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমলে সেই সুবিধাও জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।