ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা

ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা
ছবির ক্যাপশান, ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নহ্ উপজাতি সম্প্রদায় দাবি করেছে, গত কয়েক বছরে তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকার এলাকা এবং কৃষিজমির একটি অংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয় নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সেখানে সংগঠনটির সভাপতি কেরু চাদের অভিযোগ করেন, সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাদের উপস্থিতি জোরদার করেছে।

 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কয়েক বছর আগেও যেসব এলাকায় স্থানীয়রা গবাদিপশু চরাতেন, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন এবং শিকার করতেন, সেসব এলাকায় বর্তমানে তাদের প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের ঐতিহ্যগত ভূখণ্ড হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

 

নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অভিযোগ অনুযায়ী, তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অধীন অন্তত পাঁচটি এলাকায় চীনের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতা অঞ্চলের পানিয়ার, মারনাফে অঞ্চলের মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং এলাকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকা শুধু অর্থনৈতিক বা জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কিছু অঞ্চল তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হয়।

 

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সীমান্তসংলগ্ন কিছু এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থায়ী সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তরক্ষায় সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই এবং সীমান্ত এলাকার বাস্তব অবস্থা নিরূপণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেছেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।

 

তবে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার গাম্বো তাসো কিংবা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ বিদ্যমান। বিশেষ করে পূর্ব লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা দেখা গেছে। অরুণাচল প্রদেশকে চীন দক্ষিণ তিব্বতের অংশ হিসেবে দাবি করে আসলেও ভারত অঞ্চলটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
 


সম্পর্কিত নিউজ