{{ news.section.title }}
ট্রাম্প একজন ‘লুজার’: জো বাইডেন
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাঁকে একজন ‘লুজার’ বা ব্যর্থ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অহমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি গালা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন বাইডেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় অংশ নেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে দুর্বল করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার নেতৃত্বের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বাইডেন বিশেষভাবে ন্যাটো ইস্যুতে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প বারবার ন্যাটোর গুরুত্বকে খাটো করেছেন এবং পশ্চিমা সামরিক জোটটির ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য ন্যাটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তৃতায় বাইডেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার মধ্যে ব্যক্তিগত অহমিকা এবং আত্মপ্রচার প্রবণতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পূর্বাংশ বা ‘ইস্ট উইং’-এর কিছু অংশ ভেঙে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন।
এছাড়া ওয়াশিংটনের বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারে ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার ঘটনাও তুলে ধরেন বাইডেন।
এসব ঘটনার উল্লেখ করে একপর্যায়ে তিনি বলেন, “উফ, ভাবা যায়, কী এক লুজার!”
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাইডেন তুলনামূলকভাবে কম জনসম্মুখে এলেও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচারণায় আবারও সক্রিয় হচ্ছেন। বিশেষ করে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দলের প্রার্থীদের সমর্থনে সরাসরি মাঠে নামছেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ককে সামনে এনে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
অন্যদিকে রিপাবলিকান শিবিরের নেতারা বাইডেনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে নীতি ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প ও বাইডেনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বড় একটি অংশ দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে একই সঙ্গে দুই দলের সমর্থকেরা নিজেদের অবস্থানে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেনের এই বক্তব্য শুধু ট্রাম্পের সমালোচনাই নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বার্তারও অংশ। এর মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের নেতৃত্ব, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে চাইছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাইডেনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন